কাঁচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা

অনেকেই কাঁচা রসুন খেতে একদমই পছন্দ করেন না।

মুখের দুর্গন্ধের ভয়ে অনেকেই কাঁচা রসুন থেকে দূরে থাকেন।

কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে কাঁচা রসুনের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক বেশি।

বিশেষ করে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দূর করতে কাঁচা রসুনের জুড়ি নেই।

কাঁচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা

ইউনিভার্সিটি অব হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল সায়েন্সের গবেষণায় রসুনের এই সব গুণাগুণ প্রকাশ পেয়েছে।

আজ জেনে নিন রসুনের কিছু অসাধারণ গুণ সম্পর্কে।

রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সবারই জানা উচিত।

রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতাঃ

আমরা সকলেই জানি যে রসুন রান্নায় স্বাদ হিসাবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি প্রাচীন এবং আধুনিক ইতিহাস জুড়ে ওষুধ হিসাবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এটি হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ ব্যবহার করে আসছে এবং প্রাচীন মিশরে এটি রন্ধনসম্পর্কীয় উদ্দেশ্যে এবং এর স্বাস্থ্য ও নিরাময় সুবিধার জন্য ব্যবহৃত হত।

উচ্চ সালফার উপাদান এটিকে অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্য দেয়, টক্সিন বের করে পাচনতন্ত্রকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

এটি সাধারণ ঠান্ডা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে অবরুদ্ধ ধমনী পরিষ্কার করে।

আজ আমি আপনাদের বলব রসুনের উপকারী ও ক্ষতিকারক দিক।

নীচে রসুনের উপকারিতা ও অসুবিধা সম্পর্কে পর্যালোচনা করুন:

সুবিধা

১. সর্দি এবং ফ্লুর ক্ষেত্রে

যাদের স্থায়ী সর্দি এবং ফ্ল সমস্যা রয়েছে তাদের রসুন উপশম করতে পারে।

প্রতিদিন কাঁচা বা সিদ্ধ রসুনের সাথে ২-৩টি লবঙ্গ খান বা রসুনের কোয়া চায়ে এক চুমুক আপনাকে ঠান্ডা বা ফ্লু থেকে মুক্তি দেবে।

যাইহোক, এটি শুধুমাত্র সর্দি নিরাময় করে না আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।

২. হার্টের সমস্যার সমাধান

প্রতিদিন রসুন খাওয়া অ্যালিসিনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও এটি খুবই উপকারী।

এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে সালফারযুক্ত যৌগ অ্যালিসিন রসুন সম্পূর্ণরূপে রান্না করা হলে তার ঔষধি গুণাবলী হারায়।

রসুনের উপকারী গুণাবলী পেতে হলে তা কাঁচা বা আধা সিদ্ধ করে খেতে হবে।

৩. ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে

রসুন অতীতের সেরা ঔষধি পণ্যগুলির মধ্যে একটি।

এটি ৭০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং পরজীবী সংক্রমণের চিকিত্সার জন্য একটি অ্যান্টিবায়োটিক হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

৪. ক্যান্সার প্রতিরোধ

বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিদিন রসুন খাওয়া পাকস্থলী এবং কোলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ

এটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।

৫. ত্বক এবং চুলের জন্য

রসুনের উদ্দীপক বৈশিষ্ট্যগুলি ত্বককে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং কোলাজেনের হ্রাসকে ধীর করে যা বৃদ্ধ বয়সে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস করে।

অধিকন্তু, রসুন অলৌকিকভাবে ছত্রাক সংক্রমণের চিকিত্সা করে এবং একজিমার মতো ত্বকের রোগ থেকে মুক্তি দেয়।

এবং হামের মতো ছত্রাক সংক্রমণের কার্যকর প্রতিকার।

চুলের জন্য পেঁয়াজের বিস্ময়কর জিনিসের কথা আমরা সবাই জানি কিন্তু এর ভাই, রসুন পেঁয়াজের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

আপনার মাথার ত্বকে রসুনের নির্যাস ঘষে বা রসুন-মিশ্রিত তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে চুল পড়া রোধ হয়।

৬. যক্ষ্মা প্রতিরোধ

রসুনে এত বেশি উপাদান রয়েছে যে আপনার যদি যক্ষ্মা বা টিবির মতো কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে সারাদিনে কয়েক ভাগে ভাগ করে একটি আস্ত রসুন খান।

যক্ষ্মা নির্মূল করা সম্ভব।

৭. যৌনতা বাড়াতে রসুনের ভূমিকা

প্রতিদিন কয়েকটা করে কাঁচা রসুন খেলে শরীরের যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হয়।

যারা কৈশোরের শেষের দিকে আছেন তারা প্রতিদিন খাঁটি ঘিতে ভাজা রসুনের দুটি কোয়া খেতে পারেন।

তবে খাবার শেষে একটু গরম পানি বা দুধ খেতে হবে।

এতে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

যৌবন রক্ষায় রসুন অন্যভাবে খাওয়া যেতে পারে।

এক বা দুটি লবঙ্গ রসুনের পেস্ট দুই বা তিন চামচ কাঁচা আমের রসের সঙ্গে খেতে পারেন।

নারী-পুরুষ উভয়ের যৌবন দীর্ঘায়িত হয়।

অসুবিধা

রসুনের শুধু উপকারিতাই নয়, এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে।

১. লিভারের ক্ষতি

রক্ত পরিশোধন, চর্বি ও প্রোটিনের বিপাক, শরীর থেকে অ্যামোনিয়া অপসারণ ইত্যাদি লিভারের কিছু কাজ।

গবেষণায় দেখা গেছে রসুনে থাকা ‘অ্যালিসিন’ উপাদান বেশি রসুন খেলে লিভারে বিষক্রিয়া হতে পারে।

২. ডায়রিয়া

খালি পেটে রসুন খেলে ডায়রিয়া হতে পারে।

কারণ রসুনে সালফার থাকে যা পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৩. বমি এবং হার্টবার্ন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট দ্বারা প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, খালি পেটে রসুন খেলে হার্টবার্ন, বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে রসুনে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা জিইআরডি বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ সৃষ্টি করে।

৪. দুর্গন্ধ

বেশি রসুন খেলে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়।

দুর্গন্ধ

এর প্রধান কারণ রসুনে থাকা সালফার।

৫. রক্তপাত বাড়ায়

রক্তের ঘনত্ব কমাতে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে রসুনের সুনাম রয়েছে।

তাই যারা ‘ওয়ারফারিন, ‘অ্যাসপিরিন ইত্যাদি ‘ব্লাড থিনার’ ধরনের ওষুধ খান তাদের অতিরিক্ত রসুন খাওয়া উচিত নয়।

কারণ রক্ত খুব পাতলা হয়ে যায় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে।

সতর্কতা:

১) দিনে ২ কোয়ার্টারের বেশি কাঁচা রসুন খাবেন না। রান্নায় রসুন ব্যবহার করা হলেও দিনে মাত্র ২ কোয়া রসুন খাওয়া যায়।

২) রসুনে অ্যালার্জি বা কোনো বিশেষ কারণে রসুন খাওয়া বন্ধ করে দিলে রসুন না খাওয়াই ভালো।

৩) অতিরিক্ত রসুন খেলে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ ও বমি বমি ভাব হতে পারে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.