টবে পুদিনা পাতার চাষ পদ্ধতি

নিম্নোক্ত তথ্যগুলি টবে পুদিনা পাতার চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে।

পুদিনা একটি হাল্কা বেগুনি, গোলাপী বা সাদা ফুল ধারী বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। পুদিনা পাতার তাজা, মিষ্টি, সুগন্ধযুক্ত স্বাদ রয়েছে। পুদিনা গাছের জোড়া পাতা থাকে, এবং একটু লম্বাটে হয়।

পুদিনা পাতা সাধারণত কালচে-সবুজ, ধূসর-সবুজ,বেগুনি, নীল এবং কিছু জাতের ফ্যাকাশে হলুদ বর্ণের হয়। পুদিনা গাছের বর্গাকার কাণ্ড থাকে এবং পুদিনা পরিবারের উদ্ভিদগুলি তাদের কান্ডের আকৃতি দ্বারা সহজেই চেনা যায়। পুদিনা হল মেন্থা গোত্রের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল সুগন্ধি ভেষজ উদ্ভিদ।

এই উদ্ভিদগুলি বাগানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই উদ্ভিদগুলো খাড়া এবং এর কান্ড বর্গাকার শাখাযুক্ত।

আলোচ্য বিষয় দেখুন

টবে চাষের জন্য বিভিন্ন জাতের পুদিনা

টবে পুদিনা পাতার চাষ পদ্ধতি

পুদিনা গাছের প্রায় ৬০০টির ও বেশি ধরন আছে। প্রায় সব ধরনের পুদিনা গাছই টবে চাষ করা সম্ভব। তবে এখানে আমি সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতগুলোর চাষ পদ্ধতি তুলে ধরবো।

এই উদ্ভিদ খুব জোরালোভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য  আপনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

প্রতিটি জাতের পাতার নিজস্ব স্বাদ ও গন্ধ রয়েছে। কিছু পুদিনা জাত আছে যেগুলো শুধু রান্নার কাজে ব্যবহার হয়। আবার কিছু জাত আছে এগুলা শুধুমাত্র নান্দনিক উপস্থিতির কাজে ব্যবহার হয়। তাই আপনার পছন্দ মতো পুদিনা জাত বেছে নিন।

নিচে উল্লেখিত জাতগুলো টবে চাষ করার জন্য উপযোগী

মেন্থলঃ এই ধরণের পুদিনায় করাতের দাঁতের মতো পাতা থাকে। এর সাদা বা বেগুনী রঙ্গয়ের ফুল থাকে। হাতে নিয়ে ভাঙলে এই পাতা মিষ্টি মশলাদার গন্ধ ছড়ায়। এই ধরণের পুদিনা গাছগুলি সহজেই টবে চাষ করা যায় এবং এটি দ্রুত ক্রমবর্ধমান। এগুলি চাষের জন্য ফুল ফোটার আগে মাটি থেকে ১ ইঞ্চি উপরে কেটে এদের সংগ্রহ করুন। এই জাতীয় পুদিনা ঘরে এবং ঘরের বাইরে উভয় জায়গাতেই ভালো জন্মায়। মেন্থল টবে চাষ করার জন্য শীতকালই সবচেয়ে উপযোগী সময়।

সবুজ পুদিনাঃ এই জাতীয় পুদিনা দেখতে মেন্থলের মতোই। এর উজ্জ্বল সবুজ রঙের পাতা থাকে এবং ফুল দেখতে ল্যাভেন্ডার পুদিনার ফুলের মতো যা প্রায় ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত বড় হয়। টবে চাষ করার জন্য এটি পুদিনার সেরা জাত।

পাইনাপেল পুদিনাঃ পাইনাপেল পুদিনা আপেল পুদিনার ক্রস জাত। এই পুদিনা উদ্ভিদ, আকর্ষণীয় বহু রঙের পাতা বিশিষ্ট, পাতার প্রান্তে সাদা দাগ আছে। এই গাছগুলি প্রায় ১ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত লম্বা হয়। আনারস পুদিনা পাতাগুলি লোমশ এবং পাতার প্রান্তে সাদা দাগ রয়েছে যা এটিকে দেখতে আরো সুন্দর করে তোলে। গ্রীষ্মের তাপমাত্রায় এই জাতীয় পুদিনা উদ্ভিদে সাদা বা হালকা গোলাপী ফুল ফোটে।

আপেল পুদিনাঃ আপেল পুদিনা গাছের লম্বা, সূক্ষ, নরম কাটাওয়ালা সুগন্ধী পাতাযুক্ত কাষ্ঠল কান্ড থাকে। এই গাছে সাদা বা গোলাপী রঙের ফুল ধরে। এই গাছগুলি শীতের শেষের দিকে এবং শরৎকালের প্রথম দিকে ভালো জন্মায়। টবে চাষ করার জন্য এটিও পুদিনার আদর্শ একটি জাত।

রেড পুদিনাঃ এটি কর্ণ পুদিনা(mentha arvensis), ওয়াটার পুদিনা(mentha aquatica)এর হাইব্রিড জাত যা। এই পুদিনা গাছগুলি লাল ডালপালা সহ সুন্দর সবুজ বা লাল পাতা তৈরি করে। এই পুদিনা গাছগুলি টবে চাষ করার জন্য উপযোগী। এরা পূর্ণ রোদে বা আংশিক ছায়ায় জন্মাতে পারে। এই জাতীয় পুদিনা চাষের জন্য শরৎকাল ও বসন্তকাল খুবই উপযোগী।

চকলেট পুদিনাঃ দ্রুত বর্ধনশীল এই পুদিনা গাছের সুন্দর সবুজ রঙ্গয়ের চকলেটের স্বাদযুক্ত পাতা রয়েছে। টবে চাষ করার জন্য এটিও খুব ভালো জাত। চকলেট পুদিনা পূর্ণ রোদে আংশিক ছায়ায় ভালভাবে বিকশিত হয়। শরৎ এবং  বসন্ত চকলেট পুদিনা জন্মানোর আদর্শ সময়।

অরেঞ্জ পুদিনাঃ এটি হাইব্রিড জাতের পুদিনা উদ্ভিদ। অরেঞ্জ পুদিনা পাতার শক্তিশালী, মনোরম গন্ধ রয়েছে। এটি অম্লীয়, আর্দ্র, কাদামাটিতে ভালো জন্মে। তাই এটিও টবে চাষ করলে খুব দ্রুত বাড়ে।

ল্যাভেন্ডার পুদিনাঃ ল্যাভেন্ডার পুদিনার পাতা মেন্থলের পাতার মতো। এর লাল কান্ড এবং ছোটো নরম কাটাযুক্ত রঙ্গিন ফুল এটিকে আরো সুন্দর করে তোলে। ল্যাভেন্ডার পুদিনা হল সেরা সুগন্ধি পুদিনা উদ্ভিদ। এটিকে রান্নার কাজে এবং ওষধি হিসাবে দুইভাবেই ব্যবহার করা যায়। এই পুদিনা উদ্ভিদগুলি পূর্ণ রোদে ভালো জন্মায়। যেকোনো ঋতুতেই টবে এদের চাষ করা যায়।

ব্যাসিল পুদিনাঃ এই পুদিনা উদ্ভিদে উজ্জ্বল সবুজ রঙের সরু-দাঁতযুক্ত পাতা হয়। এটিতে গ্রীষ্মকালে বেগুনি রঙের ফুল হয়। এই পুদিনা পাতার একটি মশলাদার স্বাদ আছে। ব্যাসিল পুদিনা টবে চাষ করার জন্য উপযুক্ত। শরৎ এবং বসন্ত হল ব্যাসিল পুদিনা জন্মানোর আদর্শ সময়।

মিষ্টি পুদিনাঃ মিষ্টি পুদিনা উদ্ভিদের কালচে সবুজ রঙের সরু দাঁতযুক্ত পাতা থাকে। এই জাতটিও টবে ভাল জন্মে। আংশিক রোদযুক্ত স্থানে এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মিষ্টি পুদিনা জন্মানোর জন্য বসন্তকাল আদর্শ সময়।

এছাড়া সহজেই আপনার পছন্দের পুদিনা জাত চেনার জন্য পড়তে পারেনঃ পুদিনা পাতা ও উদ্ভিদ চেনার উপায়

টবে পুদিনা পাতা চাষের ২টি পদ্ধতি

পুদিনা, বীজ এবং কাটিং উভয় থেকেই ছড়াতে পারে। বীজ থেকে বংশবিস্তার একটু দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কাটিং পদ্ধতিতে সময় একটু কম লাগে। বিশেষ করে টবে পুদিনা পাতার চাষের জন্য আদর্শ পদ্ধতি হলো কাটিং

বীজের মাধ্যমে টবে পুদিনা পাতার চাষ পদ্ধতি

  • বীজ থেকে পুদিনা চাষ করা কিছুটা কঠিন। কারণ বীজের অঙ্কুরোদগমে অনেক সময় লাগে। আবার দেখা যায় সবসময় অঙ্কুরোদগম সফল হয়না।
  • আপনি যদি বীজ থেকে পুদিনা চাষ করতে চান, তাহলে একটি বীজ বপনের ট্রেতে বা ছোট কোনো পাত্রে(আপনার বীজের পরিমাণ অনুসারে নিন)পাত্রে বীজ বপন করুন।
  • জৈব সার সমৃদ্ধ উর্বর মাটি দিয়ে ট্রে/ পাত্রটি ভর্তি করুন। পাত্রের/বীজ বপনের ট্রেটিতে ছোটো ছোটো গর্ত করুন এবং প্রতিটি গর্তে ২-৩ টি বীজ বপন করুন। এরপর বীজগুলো মাটি দিয়ে ঢেকে দিন।
  • এখন পাত্রটিতে/ট্রেতে পানি দিন। খেয়াল রাখুন পানি যেনো আটকে না থেকে। শুধু পাত্রটিকে/ট্রেটিকে আর্দ্র রাখুন।
  • ট্রে/পাত্রটিকে সূর্যের আলোযুক্ত উষ্ণ এবং শুষ্ক স্থানে রাখুন।
  • বীজ অঙ্কুরোদ্গমের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ২০-২৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
  • সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০-২৫ দিনের পুদিনার বীজ অঙ্কুরিত হবে।

এরপর বীজগুলো সাবধানে শিকড়সহ উঠিয়ে টবে রোপণ করুন এবং নিয়মিত পরিচর্যা করুন।

অথবা,

প্রায় সব গাছের দোকান এবং নার্সারিতে পুদিনার চারা পাওয়া যায়। অভিজ্ঞতা না থাকলে বীজ থেকে পুদিনা উদ্ভিদ অঙ্কুর করতে সমস্যা হতে পারে। তাই আপনি সরাসরি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে, জৈব সার সমৃদ্ধ মাটি ভরা পাত্রে সরাসরি চারাগুলো রোপণ করেন।

কাটিং পদ্ধতিতে টবে পুদিনা পাতার চাষ

  • যদি কাটিং পদ্ধতিতে পুদিনা চাষ করতে চান, তাহলে ভালোভাবে বেড়ে ওঠা পুদিনা গাছের কিছু অংশ সংগ্রহ করুন। একটি ধারালো কাঁচি দিয়ে সুস্থ কোনো শাখা থেকে প্রায় এক ইঞ্চি কাণ্ড কেটে নিন।
  • অথবা আপনি সুপারমার্কেট থেকে কেনা পুদিনার ডালপালাও ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি ছেঁটে ফেলা অবশিষ্ট পুদিনা ডালপালাও ব্যবহার করা যায়।
  • এখন একটি পরিষ্কার গ্লাসে পরিষ্কার পানি নিয়ে তাতে সংগ্রহীত পুদিনা কাটিংগুলো রাখুন। তাতে করে অল্পকিছুদিনেই এই কাটিংগুলোর শিকড় গজাবে।
  • গ্লাসটিকে একটি উষ্ণ, রৌদ্রজ্জ্বল স্থানে রাখুন এবং কাটিংগুলো থেকে শিকড় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। গ্লাস পূর্ণ রাখার জন্য প্রয়োজন হলে পানি যোগ করুন।
  • একসময় ১-২ ইঞ্চি লম্বা সাদা রঙের শিকড় গজাবে। এখন কাটিংগুলো টবে লাগানোর জন্য প্রস্তুত।
  • ১ টি টবের নীচের তৃতীয়াংশ জৈব সার মেশানো উর্বর মাটি দিয়ে পূরণ করুন। তারপর শিকড়সহ কাটিংগুলো রোপণ করুন।
  • প্রয়োজনে গাছের সাথে কাঠের লাঠি ঠেস দিন যাতে লাঠিগুলো গাছটিকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে পারে। গাছ বড় হলে এই কাঠের লাঠিগুলি সরিয়ে নিবেন।
  • গাছে নিয়মত পানি দিন। খেয়াল রাখুন যাতে পানি গাছের গোড়ায় জমে না থাকে। আবহাওয়া অনুযায়ী গাছে পানি দিন। আবহাওয়া গরম থাকলে পানির পরিমাণ বাড়ান।
  • পাছটি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে না যাওয়া পর্যন্ত টবটি আংশিক ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন।
  • একবার গাছটি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলে একে রোদে রাখুন।
  • পাতার সঠিক বৃদ্ধির জন্য মাসে একবার বা দুবার হালকা সার ব্যবহার করুন।

পুদিনা পাতার চাষের জন্য টব কেমন হওয়া উচিত

  • টবে চাষের জন্য একটি বড় আকারের টব প্রয়োজন। কারণ পুদিনা উদ্ভিদ দ্রুত বৃদ্ধি পায় , এবং অনেকটা জায়গা দখল করে ফেলে।
  • অগভীর পাত্র ব্যবহার করবেন না। কারণ গাছের শিকড় পাত্রের নীচে ছড়িয়ে যায়। আর পাত্র অগভীর হলে অসম মূলের বিস্তার ঘটার কারণে গাছগুলো মারা যেতে পারে।
  • বাড়ন্ত পুদিনার জন্য, পাত্রের ব্যাস ৮ ইঞ্চি বা তার বেশি, এবং পাত্রের গভীরতা ১০-১২ ইঞ্চি হওয়া প্রয়োজন।
  • পানি নিষ্কাশনের জন্য পাত্রে ২/৩ টা ড্রেনিং নল/গর্ত থাকতে হবে। ব্যবহারের আগে গরম পানি এবং এন্টিসেপটিক দিয়ে টব জীবাণুমুক্ত করুন। টবের নিচের স্তরটি ছোটো ছোটো নুড়ি পাথর দিয়ে পূরণ করুন।
  • পুদিনার জন্য মাটি, পোড়ামাটি, প্লাস্টিক বা কাঠ দিয়ে তৈরি যেকোনো ধরনের টব-ই ব্যবহার করতে পারেন।

আরো পড়ুন- পুদিনা পাতা সংরক্ষণের উপায়

পুদিনা পাতার চাষের জন্য টবের মাটি কেমন হওয়া উচিত

  • পুদিনা গাছের ভালো বৃদ্ধির জন্য জৈব পদার্থে সমৃদ্ধ উর্বর মাটির প্রয়োজন।
  • মাটির PH এর মাত্রা ৬ থেকে ৭.৫ এর মধ্যে হওয়া উচিত।(শিথিলযোগ্য)
  • পুদিনা গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রচুর পানি প্রয়োজন, কিন্তু পানি গাছের গোড়ায় আটকে থাকা যাবেনা। তাই এটেল মাটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। একটু আদ্র বেলে মাটি ব্যবহার করুন।
  • যদিও পুদিনা নিজেকে সব ধরনের মাটির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তবুও, খেয়াল রাখা দরকার যেনো টবের মাটি জৈব সার সমৃদ্ধ হয়।

পুদিনা পাতার চাষের জন্য টব কেমন জায়গায় রাখা উচিত

  • প্রায় সব পুদিনা জাতই শীতল, আংশিক ছায়ায়যুক্ত স্থানে ভালো জন্মে। তবে কিছু জাত পূর্ণ রোদে ভালো জন্মে। আপনার পছন্দ করা জাত অনুসারে জায়গা নির্বাচন করুন।
  • বারান্দা, বাড়ির উঠান, বাড়ির ছাদের বাগানেও পুদিনা চাষ করতে পারেন।
  • বাড়ির ভিতরে চাষ করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলো, বাতাস যুক্ত স্থান নির্বাচন করুন। যেমন আপনার ঘরের জানালার কাছে।

টবে পুদিনা পাতার চাষের জন্য উপযুক্ত আবহাওয়া

  • পুদিনা নরমাল আবহাওয়াতে ভালো জন্মে।
  • পুদিনার দ্রুত বৃদ্ধির জন্য সূর্যের আলো প্রয়োজন হয়। গ্রীষ্ম, শরৎ, এবং বসন্তকালে টবে পুদিনা পাতার চাষ ভালো হয়।
  • যদিও বৃদ্ধি কতটুকু/কেমন দ্রুত হচ্ছে এটা নির্ভর করে জাতের উপর।
  • পুদিনা জন্মানোর জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হল দিনে ২৫ ° সি এবং রাতে ১৫ ° সি।

টবে পুদিনা পাতার চাষের জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা

  • পুদিনা গাছের বেঁচে থাকার জন্য প্রচুর পানি প্রয়োজন।তাই পাত্রের মাটিতে আর্দ্রতা বজায় রাখুন। তবে খেয়াল রাখুন গাছের গোড়ায় যেনো পানি জমে না থাকে।
  • মাটিতে ২ ইঞ্চি গভীরে আঙুল ঢুকান। যদি আপনি অনুভব করেন যে মাটি শুকনো, তাহলে গাছে পানি দিন। যদি মাটি ভেজা থাকে তবে পানি দেওয়ার দরকার হবেনা।
  • গরম এবং শুষ্ক আবহাওয়ায় পুদিনা গাছকে দিনে কয়েকবার পানি দেওয়া প্রয়োজন। শীতের সময় মাটির আর্দ্রতা বুঝে পানি দিন।
  • দীর্ঘ সময় ধরে পুদিনা গাছের গোড়ার মাটি শুকনো রাখলে গাছ মারা যেতে পারে।
  • অতিরিক্ত পানি দিলে পুদিনা পাতা তেতো হয়ে যেতে পারে।

টবে পুদিনা পাতার চাষের জন্য কেমন সূর্যের আলো প্রয়োজন

  • জাত অনুসারে পুদিনা গাছ পূর্ণ রোদে বা আংশিক ছায়ায় ভাল জন্মে।
  • বৃদ্ধির সময় ৫-৬ ঘন্টা সূর্যের আলো পেলে আরো দ্রুত বাড়ে।
  • গ্রীষ্মকালে সূর্যের প্রচণ্ড তাপ গাছের ক্ষতি করতে পারে। তাই তাপমাত্রা বেশি হলে টবসহ গাছটি ছায়াতে রাখুন।
  • বাড়ির ভিতরে চাষের ক্ষেত্রে, পুদিনা গাছ বেড়ে ওঠার জন্য পূর্ণ আলো প্রয়োজন। তাই টবসহ গাছ জানালার পাশে বা আলো পায় এমন স্থানে রাখুন।

টবে পুদিনা পাতার চাষের জন্য কেমন সার প্রয়োজন

  • যদি আপনি গাছ লাগানোর শুরুতে জৈব সার সমৃদ্ধ মাটি ব্যবহার করেন তাহলে আর অতিরিক্ত সারের প্রয়োজন পরবে না।
  • তবে যখন পাতা গজাতে শুরু করে তখন ও কিছু জৈব/কম্পোস্ট সার ব্যবহার করতে পারেন। রাসায়নিক কোনো সারের প্রয়োজন পরবে না।
  • পুদিনা গাছের বেশি পানির প্রয়োজন হয়। আর নিয়মিত পানি দেওয়ার ফলে মাটির পুষ্টি উপাদানগুলো ধুয়ে যায়। তাই মাঝে মাঝে প্রাকৃতিক কম্পোস্ট সার বা ডীমের খোসা/ ভাতের মাড় এগুলো গাছের গোড়ায় ব্যবহার করুন।

টবে পুদিনা পাতার চাষে কীটপতঙ্গ এবং রোগ

  • পুদিনা উদ্ভিদকে আক্রমণকারী সাধারণ কীটপতঙ্গ হল এফিড, কাটপোকা, থ্রিপস, হোয়াইটফ্লাইস এবং স্পাইডার মাইটস।
  • এই সাধারণ কীটপতঙ্গগুলির জন্য যে কোনও জৈব বা প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করুন।
  • এসব কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করতে জৈব কীটনাশক যেমন নিমের পানি/তেল বা বিভিন্ন কীটপতঙ্গ দমঙ্কারী স্প্রে ব্যবহার করুন।
  • পুদিনা গাছের সাধারণ রোগগুলি হল ফুসকুড়ি, মরিচা, পাতায় দাগ, অ্যানথ্রাকনোজ এবং স্টিম ক্যানকার।
  • অতিরিক্ত পানি দেওয়ার কারণে এবং পাতাগুলো সবসময় ভেজা থাকলে কিছু ছত্রাকজনিত রোগ হয়। এই সমস্যা সহজে এড়ানোর জন্য শুধুমাত্র গাছের গোড়ায় পানি দিন এবং পানি নিষ্কাশিত হয় এমন টব ব্যবহার করুন।
  • রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য, পাতার আক্রান্ত অংশ বা সম্পূর্ণ পাতা কেটে ফেলুন। এটি ছত্রাকজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে সহজ উপায়।

পুদিনা পাতার চাষের সময় পাতা সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের টিপস

  • বাড়ন্ত সময়ে পুদিনা গাছ হতে ১-২ বার পাতা সংগ্রহ করা যায়। এছাড়া অন্য সময় ঘন ঘন সংগ্রহ করতে পারেন।
  • শুধুমাত্র সকালে পুদিনা গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করুন।
  • ঘন ঘন পাতা সংগ্রহের ফলে পাতার উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
  • পুরোনো পাতার চেয়ে কচি পাতা পুদিনা পাতা সুস্বাদু। তাই কচি থাকতেই পাতা সংগ্রহ করুন।
  • তাজা পুদিনা পাতার স্বাদ ভালো থাকে। এছাড়াও পুদিনা পাতা সংরক্ষণের আরো উপায় আছে।

টবে পুদিনা পাতার চাষে সাধারণ কিছু সমস্যা ও সমাধান

আপনি যদি বাড়ির টবে পুদিনা চাষ করেন, তাহলে কিছু সমস্যায় ভুগতে পারেন যেমন

  • অতিরিক্ত পানি দেওয়া এবং পাতা ভিজা থাকার কারণে ছত্রাকজনিত রোগ হতে পারে। তাই সবসময় শুধুমাত্র গাছের গোড়ায় পানি দিন।
  • পুদিনা চাষের জন্য পাতা সংগ্রহ এবং আবার পাতা গজানোই উত্তম চাষ পদ্ধতি। নিয়মিত পাতা সংগ্রহ নতুন পাতা গজাতে সাহায্য করবে। পাতার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে এবং অনেক রোগ নিয়ন্ত্রণ করবে। নিয়মিত পাতা সংগ্রহের ফলে গাছের বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
  • কীটপতঙ্গ আক্রান্ত পাতাগুলো হয় ছাটাই করে ফেলুন না হলে কীটনাশক ব্যবহার করুন। আর পুদিনা গাছে শুধুমাত্র সকালে/বিকালে পানি দেওয়া উচিত। দুপুরের পানি দেওয়ার কারণে ছত্রাকজনিত রোগ হতে পারে।

শেষ কথা

এই লিখায় টবে পুদিনা পাতার চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। পদ্ধতিটি পরীক্ষিত এবং ইফেক্টিভ। আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আশা করি সফল হবেন। কোথায় বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্টে জানানোর অনুরোধ রইল। আর ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.