পুদিনা পাতা ও উদ্ভিদ চেনার উপায়

শুঁকে গন্ধ নিন! যদি আপনার কাছের উদ্ভিদটির সবুজ পাতায় তীক্ষ্ণ, মিন্টি গন্ধ থাকে, তবে বুঝতে হবে এটি পুদিনা পরিবারের সদস্য। পুদিনা এবং মেন্থল বাগানের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পছন্দ, তবে পুদিনার চকোলেট, ল্যাভেন্ডার সহ আরো অন্যান্য জাতের ও আকর্ষণীয় গন্ধ রয়েছে। কিছু জাত পুরোপুরি শোভাময়। পুদিনা পাতা সহজে চেনার জন্য এই লিখা সম্পূর্ণ পড়ুন।

সমস্ত পুদিনা প্রজাতির জন্য সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য হলোঃ তারা লাজুক প্রকৃতির নয় কিংবা সহজে নুইয়ে পড়ে না। বাড়ির বাগানে লাগিয়ে রাখলে, পুদিনা বাগানের অনেক অংশই দখল করবে , এবং কখনও কখনও পুরো বাড়ির উঠোন জুরেও এরা হয়ে থাকে। আপনি চাইলে পাত্রে পুদিনা লাগিয়ে নিজেকে অনেক   রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকেও নিজেকে বাঁচাতে পারেন । তবে তার জন্য  প্রথমে আপনাকে পুদিনা উদ্ভিদ এবং পাতা চিনতে হবে।

পুদিনা পাতা/গাছ চেনার সাধারণ কিছু উপায়ঃ

  • যদি একটি উদ্ভিদের সবুজ পাতায় তীক্ষ্ণ, মিন্টি গন্ধ থাকে, তবে বুঝতে হবে এটি পুদিনা পরিবারের সদস্য।
  • পুদিনা প্রজাতির জন্য সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য হলোঃ তারা লাজুক প্রকৃতির নয় বা সহজে নুইয়েও পড়ে না।
  • পুদিনা উদ্ভিদগুলির একটি অনন্য কান্ড কাঠামো রয়েছে। কান্ড বর্গাকার, অন্যান্য গাছের মতো গোলাকার নয়।
  • পাতার ছিদ্রযুক্ত প্রান্ত রয়েছে এবং চূর্ণ করার সময় মিন্টি গন্ধ থাকে।
  • কিছু পুদিনার বিভিন্ন রঙের বা ঝাপসা পাতা থাকে।

এছাড়াও নিচে বিভিন্ন জাত অনুসারে চিনার উপায় বর্ণনা করা আছে।

পুদিনা এবং মেন্থল এর পার্থক্য

পুদিনা যার অন্য নাম mentha spicata এবং মেন্থল যার অন্য নাম mentha × piperita হল পুদিনা জাত যা আপনার বাড়ির উঠোনে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। উভয়েরই পাতার শেষ প্রান্ত দাগযুক্ত এবং এর পাতা গুড়ো হওয়ার সময় তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত। উভয় জাতেরই ফ্যাকাশে বেগুনী রঙয়ের ফুল আছে।

এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হলে আপনাকে একটু কামড় দিতে হবে। ভয় পাবেন না! কামড় দিলে কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা নেই। যদি কামড় দেওয়ার পর হালকা মিষ্টি মিন্টি স্বাদ পান তাহলে নিশ্চিত এটা পুদিনা পাতা। আর যদি শক্তিশালী কড়া মিন্টি গন্ধ পান তাহলে বুঝতে হবে এটি মেন্থল। কচি পুদিনা পাতা রান্নার কাজে এবং মেন্থল পাতা চা সহ আরো অন্যান্য পানীয় তৈরি করতে ব্যবহার করতে পারেন।

জন্মানোর পরিবেশ দেখে পুদিনা পাতা চেনার উপায়ঃ

আপনি যদি একটু শীতল/ছায়াযুক্ত পরিবেশে বসবাস করেন তাহলে আপনার আশেপাশে মেন্থল জন্মানোর সম্ভাবনাই বেশি।

অপরদিকে একটু শুকনো/তাপযুক্ত পরিবেশেই পুদিনা জন্মায়।

জাত অনুসারে পুদিনা পাতা/ উদ্ভিদ চেনার উপায়ঃ

বিভিন্ন জাতের পুদিনা গাছের বৈশিষ্ট্য আমি এখানে তুলে ধরছি। এই বৈশিষ্ট্য অনুসারে আপনি খুব সহজেই পুদিনা উদ্ভিদ এবং পাতা চিনতে পারবেন।

আপেল পুদিনা চেনার উপায়ঃ

যদি আপনার বাড়ির উঠোনে বেড়ে ওঠা পুদিনার নরম, গোলাকার পাতা থাকে তবে তা আপেল পুদিনা (mentha suaveolens) হতে পারে। এই উদ্ভিদটিকে পশমী পুদিনাও বলা হয় কারণ এর ডালপালা এবং পাতাগুলি সূক্ষ্ম, নরম আঁশ দিয়ে আচ্ছাদিত থাকে।

ফুলের রঙ সাদা বা ফ্যাকাশে গোলাপী।  আপেল পুদিনা, সাধারন পুদিনা ও মেন্থল এর চেয়ে কম মিন্টি এবং ফলের স্বাদযুক্ত। পাতাগুলির হালকা মিষ্টি স্বাদ রয়েছে যা আপেল পুদিনাকে সালাদ বা তাজা ফলের সাথে খাওয়ার জন্য উপযোগী করে তোলে।

আপেল পুদিনা পাতা
আপেল পুদিনা পাতা

ল্যাভেন্ডার পুদিনা চেনার উপায়ঃ

ল্যাভেন্ডার পুদিনা (mentha x piperita ‘Lavender’) বড় চোখ ধাঁধানো ফুলের সাথে ৩ ফুট লম্বা এবং চওড়া হতে পারে। বেগুনি রঙয়ের ফুলযুক্ত এই উদ্ভিদটি একটি বাগানকে শোভাময় করার জন্য যথেষ্ট এবং প্রজাপতিগুলিও এই ফুলগুলি খুব পছন্দ করে।

এর নিচের দিকে রক্তবর্ণ এবং ধূসর-সবুজ পাতাগুলি অবশ্যই আপনাকে অবাক করবে। এই জাতটিও তীব্র মিন্টি গন্ধযুক্ত এবং প্রায়শই রান্নায় ব্যবহৃত হয়। আপনি যদি খাবারের স্বাদ পেতে পাতা ব্যবহার করেন, তাহলে সেরা ফলাফলের জন্য এটি বেছে নিন।

ল্যাভেন্ডার পুদিনা পাতা

চকলেট পুদিনা চেনার উপায়ঃ

চকোলেট পুদিনা উদ্ভিদ (mentha x piperita ‘Chocolate’) এর সুন্দর কালচে-সবুজ পাতা রয়েছে যা চকলেটের মতো শক্তিশালী গন্ধ বহন করে। সাধারণত এটি তীব্র রোদে জন্মায়,তবে মাঝে মাঝে ছায়াযুক্ত স্থানেও এদের দেখা যায়।

দ্রুত বর্ধনশীল এই পুদিনা জাতটি ২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এটি যথেষ্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। চকলেট পুদিনার পাতা লম্বা এবং বল্লম আকৃতির। যা গ্রীষ্মে প্রদর্শিত ল্যাভেন্ডার পুদিনার ফুলের সাথে একটি সুন্দর বৈসাদৃশ্য প্রদান করে।

চকলেট পুদিনা পাতা
চকলেট পুদিনা পাতা

শোভাময় কর্সিকান পুদিনা চেনার উপায়ঃ

কিছু পুদিনা রান্নার কাজে ব্যবহার করার জন্য নয়। আপনি আপনার বাগানের খালি অংশগুলি উজ্জ্বল পাতা দিয়ে পূরণ করতেও কিছু জাতের পুদিনা গাছ ব্যবহার করতে পারেন। এর মধ্যে একটি হল শোভাময় করসিকান পুদিনা (Mentha requienii)। এটি আপনার মনকে তার নরম পাতা, সূক্ষ্ম মিন্টি সুবাস এবং উজ্জ্বল রঙ দিয়ে আনন্দিত করবে।

কর্সিকান পুদিনা পাতা
কর্সিকান পুদিনা পাতা

বিভিন্ন জাতের পুদিনা গাছ

প্রায় ৬০০ প্রজাতির পুদিনা উদ্ভিদ আছে। আপনি বাগানে পুদিনার চারা রোপণ করলে এরা পুরোপুরি আপনার বাগান দখল করে ফেলবে। তাই নির্দিষ্ট একটি পাত্রে পুদিনার চারা রোপণ করা ভাল। এতে করে খুব সহজেই এদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

বিভিন্ন জাতের পুদিনা ও তাদের বৈশিষ্ট্যঃ

জাত অনুসারে পুদিনা গাছের নাম ও তাদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এতে করে এদের সম্পর্কে আপনার জানাও হবে আবার এদের চিনতে ও সুবিধা হবে।

চকলেট পুদিনা

পূর্ণ রোদে জন্ম নেওয়া চকলেট পুদিনার শক্তিশালী স্বাদ থাকবে, তবে এটি আংশিক ছায়াযুক্ত স্থানেও জন্মায়। পুদিনার এই জাতের পাতার পেপারমিন্ট এর মতো গন্ধ আছে। এছাড়াও এর মধ্যে চকলেটের গন্ধ বেশ লক্ষণীয়।

চকলেট পুদিনা বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন জাতীয় খাবারের সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ চকলেট পুদিনা পাতার ছবি উপরে সংযোজিত।

ব্ল্যাক-স্টেম পেপারমিন্ট/মেন্থল

সাধারন মেন্থলের থেকে এই জাতীয় মেন্থল এর শক্তিশালী গন্ধ থাকে। নামের মতোই এর ডালপালা কালো রঙয়ের।

ব্ল্যাক-স্টেম পেপারমিন্ট চা সুস্বাদু করতে ব্যবহার হয়।

ব্ল্যাক স্টেম পিপারমেন্ট
ব্ল্যাক স্টেম পিপারমেন্ট পাতা

ফল-সুগন্ধি পুদিনা

আনারস, কলা এবং আপেলের মতো ফলের সুগন্ধযুক্ত পুদিনা কোল্ড কফি বিভিন্ন শরবত, পানীয়কে সুস্বাদু করতে ব্যবহার করা হয়। এগুলি ঘর সুসজ্জিত করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

আপনি যে ফলের সুনগ্ধ পছন্দ করেন সেই জাতীয় পুদিনা আপনি আপনার খাবারে ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার খাবার হয়ে উঠবে আরো সুসাদু এবং লোভনীয়।

ফল-সুগন্ধি পুদিনা
ফল-সুগন্ধি পুদিনা পাতা

সাইট্রাস পুদিনা

এই জাতীয় পুদিনা উদ্ভিদ জাতগুলি শরবত এবং ঠান্ডা পানীয়গুলিতে ব্যবহার করা হয়।

সাইট্রাস পুদিনা পাতা
সাইট্রাস পুদিনা পাতা

শেষ কথা

প্রায় ৬০০ প্রজাতির পুদিনা উদ্ভিদ আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতগুলি চেনার উপায় আমি এই লিখায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সচারচর এর বাইরের জাতগুলি ব্যবহার হয়না বললেই চলে।

লিখায় কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। আর কোথাও বুঝতে অসুবিধা থাকলে বা কোনো বিষয় নিয়ে লিখা চাইলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানানোর অনুরোধ রইল।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.